• ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩, শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Blood Relation

নিবন্ধ

Blood Relation: রক্তের টান - অন্তিম পর্ব

আমরা তখন ইউনিভার্সিটির ছাত্র। মাষ্টার্স করছি। আমি আর দীপ্ত স্কুল থেকে একসাথে পড়ি। কলেজ আর ইউনিভার্সিটিতে ও এক সাথেই থাকি। দীপ্ত খুব ভালো গান করে বরাবর। ইউনিভার্সিটির একটা কম্পিটিশনে যুগ্ম প্রথম হয় ফিজিক্সের দীপ্ত সেন আর ইংরাজীর মধুছন্দা ব্যানার্জী।তারপর ওদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। ধীরে ধীরে সেই বন্ধুত্ব ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে পরিনত হয়।মধুর বাড়ি শিলিগুড়ি। ওর বাবা ওখানকার সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তার উপর ওরা ব্রাহ্মণ। ওদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা বন্ধুরা খুব চিন্তিত ছিলাম। মধু বড়লোকের মেয়ে ওর কাছে এটা ছেলে খেলা এরকম অনেক কিছু আমরা ভাবতাম। মাস্টার্স কমপ্লিট করে দীপ্ত পিএইচডি করার প্রস্তুতি নিতে থাকে। মধুও মাস্টার্স শেষ করে শিলিগুড়ি গিয়ে একটি স্কুলে চাকরি পায়। এরমধ্যে দীপ্ত পিএইচডিতে যোগ দেয়। কিন্তু মধুর বাবা ওর বিয়ে ঠিক করেন। তখনই সমস্যা শুরু হয়। মধু ওর মা, বাবাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ওর মা বুঝলেও বাবা বোঝে না।অগত্যা মধু পালিয়ে চলে আসে দীপ্তর কাছে। আমরা বন্ধুরা তখন বুঝতে পারি মধুর ভালোবাসা কত গভীর। ওরা বিয়ে করে। তখন দীপ্ত কয়েকটি টিউশন পড়ায় মাত্র, আর স্কলারশিপের কটা টাকা।আমার বাড়ি যেহেতু এখানে আর আমার বাবারও কিছু নামডাক ছিল তাই বাবাকে বলে একটা স্কুলে মধুর একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিই।বেশ আনন্দের মধ্যে দিয়ে কাটতে থাকে ওদের জীবন। স্বাচ্ছন্দ্য স্বচ্ছলতা না থাকলেও আনন্দ ছিল।অনিমেষবাবুর সাথে কথা বলার পর মেহুলের মনের মধ্যে তোলপাড় চলে। কি করবে ও এখন? কিভাবে দুটো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মানুষকে সামনাসামনি আনবে? যখন আবার একটা মানুষ অসুস্থ। বলা যায় এটা ওই মানুষটার শেষ ইচ্ছা। এইসব ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফেরে।ওকে দেখে মাধুরীদেবী মানে ওর দিয়া বলে ওঠে কি ব্যাপার দিদি ভাই আজ এত দেরি কেন? কোথায় গিয়েছিলে? তোমাকে এত গম্ভীর দেখাচ্ছে কেন?বলছি সব বলছি। আগে ফ্রেশ হয়ে আসি। তোমার সঙ্গে আজ অনেক কথা আছে। আলোচনাও আছে অনেক। বলে মেহুল বাথরুমে ঢুকে পড়ে।মাধুরীদেবী ভাবেন কি বলবে মেহুল!একটু পরেই মেহুল বেরিয়ে এসে মাধুরী দেবীকে নিয়ে নিজের ঘরে এসে বসে।শোনো দিয়া আজ আমি যা যা জানতে চাইব সব আমাকে বলবে। কোনও কিছু আমার কাছে লুকিয়ে রাখবে না। অনেক দেরি হলেও একটা চেষ্টা আমাকে করতেই হবে।কি বলছিস আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।বুঝতে পারবে বললে বুঝতে পারবে।সেদিন আমি যখন তোমাকে জিজ্ঞাসা করলাম সৌরীশ সেন নামে কাউকে চেনো কিনা? তুমি চমকে উঠেছিলে আমি সেটা লক্ষ্য করেছি। তার মানে তুমি চেনো।হ্যাঁ না মানে হ্যাঁ চিনি।এবার আমি যা বলছি দেখো সব ঠিক বলছি কিনা?অবাক চোখে তাকায় মাধুরীদেবী মেহুলের দিকে।মেহুল একে একে সব বলে যা শুনেছে অনিমেষ বাবুরকাছে। এবার বলো মা কে কি তোমরা আবার বিয়ে দিতে পেরেছিলে?না না কোলকাতা থেকে ফিরে গিয়ে তোর মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন আমাদের ফ্যামিলি ডাক্তার তোর আসার খবর শোনায়। এও বলেন যে তোর মাকে খুব সাবধান থাকতে হবে। শরীরের অবস্থা খুব খারাপ কোনওরকম উত্তেজনা চলবে না। তাই আমরা আর তোর বাবাকে খবর দিতে পারিনি। আর তোর দারুণ চায়নি মাও না। মাধুরীদেবী বলেন আমি জানতাম কোথাও একটা মস্ত ভুল হচ্ছে। বারবার বলেছিলাম মেয়েটাকে দীপ্তকে একবার বলার সূযোগ দিতে।না মেয়ে শুনলে না মেয়ের বাবা। এখন আমি কি করি?? বলে কপাল চাপড়াতে লাগলেন। মাঝখানে তুই কত কষ্ট ভোগ করলি। পারবে ওরা এখন তোকে সেসব ফিরিয়ে দিতে?সেসব এখন ছাড়ো। এখন যেটা করতে হবে মা কে আনতে হবে কলকাতায়। একমাত্র আমার শরীর খারাপ শুনলেই আসবে।তুমি ফোন করে বলো আমার খুব জ্বর। কিছুতেই জ্বর ছাড়ছে না।সেরকমই করলেন মাধুরীদেবী। মধুছন্দাকে ফোন করে বলেন মেহুলের খুব জ্বর।সেকথা শুনে পরদিনই ফ্লাইট ধরে মধুছন্দা চলে আসে। মেহুল একটু নাটক করে শরীর খারাপের।বিকেলে প্ল্যান অনুযায়ী অনিমেষবাবু মেহুলকে দেখতে আসে।অনিমেষ বাবুকে দেখে মধুছন্দা একটু ঘাবড়ে যায়। মেহুল পরিচয় করাতে গেলে অনিমেষ বলেন ওনারা পূ্র্ব পরিচিত। মধুছন্দা এড়িয়ে যেতে চান কিন্তু অনিমেষ বাবু চেপে ধরেন। এবং বলেন সৌরীশ অর্থাৎ দীপ্ত খুব অসুস্থ। প্রথমে শুনতে চায় না তখন মেহুল জোর করে।বলে মা ভুল বুঝে আর কত কষ্ট দেবে মানুষটাকে আর তুমি আমি সবাই কেন আর কষ্ট পাব। একবার বলার সূযোগ তো দিতে হবে।মধুছন্দা বলে তুমি ছোটো যা জানো না তা নিয়ে বড়দের মাঝে কথা বলো না।মেহুল কিন্তু থামে না বলে আর আমি ছোট নেই। আর আমি এখন পুরোটাই জানি। আমার মনে হয় তোমারও জানা উচিত। যে মানুষটা জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে সে কখনও মিথ্যা বলবে না।মধুছন্দা বলে মানে? কে জীবনের শেষ পর্যায়ে?অনিমেষ বাবু বলেন দীপ্ত; ওর ব্রেইনে একটা টিউমার হয়েছে অপারেশন করতে হবে। তাতে ও নাও বাঁচতে পারে। তাই আমাদের সবার অনুরোধ তুমি একবার সত্যিটা শোনো।তারপর সব শোনে মধুছন্দা।মেহুল বলে আমি তো স্যারের ঘরে তোমার অতো বড় একটা ছবি দেখে অবাক হয়ে গেছিলাম। তারপর আঙ্কেল আমাকে সব বলেন।মধুছন্দা অঝোরে কাঁদতে থাকে। বলে সে কি আমাকে ক্ষমা করতে পারবে?অনিমেষ বলেন সব হবে তুমি চলো আমাদের সাথে।সবাই মিলে চলে সৌরীশ সেনের বাড়িতে। অনিমেষ বাবু মল্লিকাকেও ডেকে নেন।অনিমেষ বাবুর সাথে মধুছন্দাকে দেখে অবাক হয়ে যান সৌরীশ।মধু মেহুলকে এগিয়ে দিল ; তোমার মেয়ে, আমি এতদিন আগলে রেখে ছিলাম এবার তুমি সামলে রাখবে। তাড়াতাড়ি তোমাকে সুস্থ হতে হবে। বলে মধুছন্দা কাঁদতে থাকে। মল্লিকা এর মধ্যে খাবার দাবার নিয়ে হাজির। মধুছন্দা মল্লিকার কাছেও ক্ষমা চায়।মল্লিকা বলে, না বৌদি আমার কাছে নয় তুমি দাদার কাছে ক্ষমা চেয়েছ ওতেই হবে। দুঃখ শুধু একটাই ভুল বুঝে তুমি মেয়েটাকে বাবার থেকে দূরে রাখলে। যাক পুরনো সব ভুলে আবার নতুন করে শুরু করো। দাদা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুক আর আমার কিছু চাই না।অপরাধ বোধে ভুগতাম তোমাদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার জন্য নিজেকে দায়ী মনে হত। আজ এতদিন পরে আবার সব ঠিক হল। এবার সবাই একটু মিষ্টি মুখ করো। মল্লিকা প্লেটের মধ্যে মিষ্টি নিয়ে সবাইকে দেয়।মেহুল গিয়ে বাবার পাশে বসে। সৌরীশবাবু ওকে বুকের মধ্যে টেনে নেন।অনিমেষ বাবু বলেন, দীপ্ত একেই বলে রক্তের টান।-সমাপ্ত- লেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রক্তের টান - দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রক্তের টান - তৃতীয় পর্ব

আগস্ট ১৫, ২০২১
নিবন্ধ

Blood Relation: রক্তের টান - তৃতীয় পর্ব

হ্যালো, আঙ্কেল আমি মেহুল বলছি। ...... হ্যাঁ, ঠিক চিনেছেন। ........ হ্যাঁ আমি যাই তো। আপনার সঙ্গে দেখা হয়নি। আমি তো কলেজ থেকে যাই। .........বলছিলাম আপনার সাথে খুব জরুরি একটা দরকার আছে। একদিন দেখা করতে চাই। ......... আপনার সুবিধা মত বলুন আমি ঠিক হাজির হয়ে যাব। ......... ঠিক আছে আঙ্কেল তাহলে কাল দেখা হচ্ছে। এখন রাখি। এই বলে মেহুল ফোন রেখে দিলে। পরের দিন ঠিক সময়ে অনিমেষ বাবু আর মেহুল হাজির নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায়। বসো, কি খাবে বলো? কিছু না। একটু কফি। আচ্ছা তাহলে কোল্ড কফি হয়ে যাক। বললেন অনিমেষ বাবুতাই হোক। দুটো কোল্ড কফি অর্ডার দিয়ে জমিয়ে বসলেন। বলো তো মা কি দরকার এই বুড়োটাকে? ঠিক বুঝতে পারছি না কিভাবে কথাটা বলবো? কোনো দ্বিধা না করে বলো। আমার মনেও একটা কৌতূহল জেগেছে তোমার কৌতূহলের সাথে মিলে যেতেও পারে। তাই বলছি বলে ফেলো, কোনও সংকোচ করো না। স্যারের বাড়িতে যাওয়ার পর থেকেই এই প্রশ্নগুলো জেগেছে। কিন্তু স্যারকে জিজ্ঞাসা করতে পারছি না। আর যাকে জিজ্ঞাসা করতে পারি সে তো কাছে থাকে না, তাই ভাবলাম আপনি তো স্যারের খুব কাছের বন্ধু তাই ভাবলাম আপনার কাছেই জানতে পারব। বেশ বেশ বলো না কি জানতে চাও। বলছি স্যারের তো নিজের বলতে কেউ নেই শুনছি, তবে ওনার ঘরে ওই ছবিটি কার? আপনি কি চেনেন ছবির ওই ভদ্র মহিলা কে? অনিমেষ বাবু মেহুলের প্রশ্নে একটু যেন চমকে গেলেন; সাথে সাথে নিজেকে ঠিক করে নিয়ে বলেন আমার মনে যে কথাটি এসেছে তার সাথে তোমার প্রশ্ন রিলেটেড। মেহুল এবার চমকে যায়, মানে? আমার প্রশ্ন হলো তুমি কে? কি তোমার পরিচয়? আর তোমার এই কৌতূহল কেন? তুমি কি চেন? কাকে চেনার কথা বলছেন? ছবির সঙ্গে তোমার মিল আমি সেদিনই খেয়াল করেছি যেদিন হাসপাতালে তোমাকে দেখি। বলতে পারো চমকে গেছিলাম তোমাকে দেখে। তারপর ভাবলাম মানুষে মানুষে তো মিল হয়। তাই চুপ করে ছিলাম। আজ তোমার কথায় আবার সেটা ফিরে এল। বলো চেনো ছবির ওই ভদ্রমহিলাকে? চুপ করে থেকো না বলো!! মেহুল বলে----- হ্যাঁ চিনি। কে হন উনি? আ আ-- মার মা----ঠিক আন্দাজ করেছিলাম আমি। বলেন অনিমেষ বাবু। আপনি আমার মাকে চেনেন? হ্যাঁ খুব চিনি। তা তিনি এখন কোথায়? শিলিগুড়িতে? নাকি অন্য কোথাও? মা সাউথের একটা স্কুলে পড়ায়। আমি দাদু দিদার কাছে বড়ো হয়েছি। মা ছুটিতে আমাদের কাছে আসে। অনিমেষ বাবু এবার জিজ্ঞাসা করেন তোমার বাবা? মেহুলের মুখটা কালো হয়ে যায়। বলতে থাকে, আমি জানি না কে আমার বাবা। কারণ সব জায়গায় মায়ের নাম দেওয়া আছে। যেখানে বাবার নাম দরকার হয়েছে শুধু লেখা আছে ডি. সেন। এর বেশি আমি কিছু জানি না। খুব ছোট বেলায় একবার মাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম বাবার কথা। মা খুব কেঁদে ছিল আর বলেছিলেন বাবা হারিয়ে গেছে। তারপর থেকে কোনও দিন কাউকে আর জিজ্ঞাসা করতে পারিনি। স্যারের ঘরে মায়ের ছবি দেখে মনের কোণে তাই এত প্রশ্ন।এখানে কোথায় থাক? কার কাছে?আমি আর আমার দিদা ইউনিভার্সিটির কাছে একটা ভাড়া বাড়িতে থাকি।এবার আঙ্কেল আপনি বলুন আমার মায়ের ছবি স্যারের ঘরে কেন?সেটা জানতে গেলে তোমাকে একটা গল্প শুনতে হবে। অত সময় আছে তো তোমার কাছে?হ্যাঁ আমার কাছে সময় আছে। শুধু একবার বলে দিই দেরি হবে ফিরতে।বলে মেহুল ওর দিকে ফোন করে বলে দেয়। এবার আপনার গল্প শুরু করে দিন।অনিমেষ বাবু বলেন এবার কিছু অর্ডার না করলে এরা তুলে দেবে। তাছাড়া খিদেও পেয়েছে কি বলো?মেহুল ওনার কথা শুনে হেসে ফেলে। বলে তাহলে এদের চিকেন কাটলেটটা খুব ভালো। বলে ও ওয়েটারকে ডেকে দুটি কাটলেট অর্ডার দেয়।এবার আপনার গল্প শুরু করুন আঙ্কেল।গল্প শুরু করেন অনিমেষ বাবু ...............ক্রমশঃলেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রক্তের টান - দ্বিতীয় পর্ব

আগস্ট ০৮, ২০২১
নিবন্ধ

Blood Relation: রক্তের টান - দ্বিতীয় পর্ব

কিরে দিদিভাই কি ভাবছিস? কদিন ধরে দেখছি তুই কেমন অন্যমনস্ক! কি হয়েছে? তোদের গ্রূপের বন্ধুদের সঙ্গে কিছু হয়েছে?কিরে উত্তর দিচ্ছিস না কেন?হুঁ?কি হ্যাঁ হ্যুঁ করছিস?ও হ্যাঁ, বলো কি বলছো?আমি যে এতক্ষণ বকে যাচ্ছি তোর কানে কিছুই ঢোকেনি!?না মানে খেয়াল করিনি; বলো।বলছি তোর কি হয়েছে? কেমন চুপচাপ হয়ে গেছিস! আমার দিদিভাই তো এত চুপচাপ থাকার মেয়ে নয়।না গো তেমন কিছু হয়নি। একটা প্রশ্ন খুব ঘুরপাক খাচ্ছে মাথার মধ্যে।কি প্রশ্ন? আমাকে বলা যাবে?আচ্ছা দিয়া তুমি সৌরীশ সেন নামে কাউকে চেনো?কী!! সৌ-- রীশ সেন? সে --সে আবার কে? আমি চিনব কি করে?না না তুমি চেনো বলিনি। জিজ্ঞাসা করছি চেনো কিনা?না না আমি ঐ নামে কাউকে চিনি না। একটু যেন উত্তেজিত হয়ে পড়লেন মাধুরীদেবী।আরে বাবা ওরকম করছো কেন! উনিইতো স্যার যাকে হসপিটালে ভর্তি করেছিলাম।তাকে আমি চিনব কি করে?না মানে মা ও তো এখানেই পড়ে ছিল। ওনার বয়স মায়ের কাছাকাছি হবে আর উনি ওখানেই পড়ে ছিলেন। তাই জিজ্ঞাসা করলাম।না না আমি চিনব কেমন করে?মেহুল বুঝতে পারলো মাধুরীদেবী র কাছে কোনও সদুত্তর পাওয়া যাবে না। উঠে পড়ল খাবার টেবিল থেকে।মনে আবার একটা খটকা -------- দিয়া এতটা রিয়্যাক্ট করলো কেন?নামটা শুনে যেন একটু চমকেই উঠলো মনে হলো। কিন্তু কেন?মেহুল কলেজে চলে গেল। মাধুরীদেবী মনে মনে মেহুলের বলা কথা গুলো ভাবতে লাগলেন। আরও ভাবলেন মধু এসব শুনলে মেয়েটার পড়া বন্ধ করে নিয়ে না চলে যায় এখান থেকে। ভাবলেন মেহুল যদি ওর মাকে এই কথাগুলো বলে তাহলে আর রক্ষা থাকবে না। মনে মনে বললেন ----- কি যে করি? আমার হয়েছে যত জ্বালা। সারা জীবন বাপ বেটি জ্বালালো এখন নাতনীও সামিল হয়েছে।এদিকে মেহুল কলেজে দুটি ক্লাস করার পর আর ভালো লাগলো না ও রিমা আর সৈকতকে বললো যাবি স্যারকে দেখতে?ওরা ক্লাস আছে বলে গেল না।কিন্তু মেহুল কলেজে আর থাকতে পারল না।রোজ একবার এস. এস. এর বাড়ি না গেলে ওর মন ভালো লাগে না। অদ্ভুত একটা টান অনুভব করে ও। মনে যে ফাঁকা জায়গাটা আছে, যে কষ্টটা আছে সেটা ভুলে যায় ওনার কাছে গেলে।ওদিকে সৌরীশবাবুও অধীর হয়ে মেহুলের পথ চেয়ে থাকেন। ওনার মধ্যে যেন পিতৃ সত্ত্বা জাগৃত হয়েছে মেহুল কে পেয়ে।এইভাবে বেশ কিছু দিন কাটল। কিন্তু মেহুল ওর প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়ার পথ বের করতে পারছে না। ওর শেষ পর্যন্ত মনে এল অনিমেষ বাবুর কথা।ক্রমশঃলেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্ব

আগস্ট ০১, ২০২১
নিবন্ধ

Blood Relation: রক্তের টান - প্রথম পর্ব

হ্যালো, হ্যাঁ হ্যাঁ মনে আছে। আজ স্যার কে ছেড়ে দেবে। আমি কালকেই হসপিটালে সব কাগজ পত্র রেডি করে রাখতে বলেছি, যাতে বেশি দেরি না হয়।হ্যাঁ রে বাবা বাড়িতে খবর দেওয়া আছে। বাড়িতে তো আছে শুধু সবসময়ের কাজের লোক বিশু দা! ওনার বাড়িতে খবর দিতে গিয়ে পাড়ার চায়ের দোকানে শুনলাম একা মানুষ, বিশুদা থাকে সঙ্গে।ঠিক আছে আমি আধাঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাব। রাখছি।বলে ফোন কেটে রেডি হতে লাগল মেহুল।মেহুল সেন, যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে মাসকম্যুনিকেশন নিয়ে পড়ে। তার সাথে সমাজসেবা করে ওর কয়েকজন বন্ধু মিলে।মেহুলকে রেডি হতে দেখে ওর দিদা বলে উঠল আজ আবার হসপিটাল যাবি এখন? কখন ফিরবি? দিন দিন বাউন্ডুলে হয়ে যাচ্ছিস।ডার্লিং মানুষের সেবা করতে চাইছি আর তুমি বলছো বাউন্ডুলে!!তোমার তো জানা আছে আমাদের যে স্যারকে রাস্তায় অসুস্থ হতে দেখে হসপিটালে ভর্তি করেছিলাম ওনার কেউ নেই। একা থাকেন। খুব ভালো মানুষ। আজ ওনাকে ডিসচার্জ করে দেবে। তাই ওনাকে বাড়ি দিয়ে আসতে যাচ্ছি।ঠিক আছে সময় মতো বাড়ি ফিরে এসো। তোমার মা ফোন করলে কৈফিয়ত দিতে পারব না।কুল ডার্লিং; ম্যায় হু না। তোমাকে কিছু বলতে হবে না। যা বলার আমি বলব।ঠিক আছে; খেয়ে যেও। বলে মেহুলের দিদা মাধুরী দেবী ওর ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।কিছুক্ষণের মধ্যেই মেহুল বেরিয়ে পড়ল। হসপিটালে গিয়ে দেখল ওরা যেমন এসব কাজে যুক্ত তাদের দুতিন জন হাজির আর স্যার মানে প্রফেসর সৌরীশ সেনের বন্ধু অনিমেষ রায় দাঁড়িয়ে। এ কদিন উনিই রোজ এসেছেন। স্যার নিষেধ করায় আর কাউকে মানে ডিপার্টমেন্টে খবর দেওয়া হয়নি।হসপিটালে সব মিটিয়ে একটা ক্যাব ভাড়া করে অনিমেষবাবু আর মেহুল সৌরীশ বাবুকে নিয়ে রওনা দিলেন। বাকিরা নিজের কাজে গেল।গাড়ি চলতে লাগলো। অনিমেষ বাবু বললেন এই কদিন এই বাচ্চা ছেলে-মেয়েগুলো যা করল ভাবা যায় না। কে বলে এখনকার ছেলে মেয়েরা স্বার্থপর?ওরা সব বিষয়ে কি ভীষন দক্ষ। সেদিন তো এই মেহুল না থাকলে তোকে বাঁচাতে পারা যেত না। এটি আমি বলছি না ডাক্তারবাবু বলেছেন।সৌরীশবাবু ক্লান্ত শরীর গাড়ির ব্যাক সিটে এলিয়ে দিয়ে বসেছেন। এতক্ষণ বন্ধুর কথা শুনছিলেন।উনি ক্লান্ত গলায় বললেন এখনকার ছেলেমেয়েদের ভালো না যারা বলে খুব ভুল বলে।এবার মেহুলকে বলেন তুমি এবং তোমার বন্ধুরা নিশ্চয়ই পড়াশোনা করো?হ্যাঁ স্যার যাদবপুরেই পড়ি। অন্য ডিপার্টমেন্ট। আপনার পরিচয় জানি আপনার গান শুনে। আপনার গান খুব ভালো লাগে আমার।তুমি ও কি গান করো?হ্যাঁ, মায়ের কাছে শিখেছি।কথাবার্তা বলতে বলতে সৌরীশবাবুর বাড়ি এসে পড়ে।মেহুল আর অনিমেষবাবু দুজনে মিলে একদম ওনার শোওয়ার ঘরে নিয়ে যায় সৌরীশবাবুকে।ওনাকে বিছানায় বসিয়ে সোজা দাঁড়াতেই মেহুলের চোখ চলে যায় দেয়ালে টাঙানো একটা ছবির দিকে।কি হলো মা বসো।হুঁ - হ্যাঁ বসছি। আপনি চুপ করে শুয়ে বিশ্রাম নিন। অনেকটা পথ এসেছেন।আমি বিশুদাকে সব বুঝিয়ে দিই, আপনিও একটু ওষুধ গুলো দেখে নিন।তুমি বিশুকে চিনলে কি করে?আপনাকে হসপিটালে ভর্তি করার পর আপনার ব্যাগে রাখা ছোট ডায়েরিটা থেকে আপনার ঠিকানা নিয়ে খবর দিতে এসে বিশুদার সঙ্গে পরিচয় হয়।স্যরি স্যার আপনার ব্যাগে হাত দেওয়ার জন্য।না না স্যরি হওয়ার কি আছে। এছাড়া কি-ই বা করার ছিল।ঠিক আছে স্যার আপনি দেখুন আর বিশুদা তুমিও দেখে নাও- মেহুল কথা বলছে ঠিকই কিন্তু চোখ বারবার চলে যাচ্ছে ছবিটার দিকে;সেটা খেয়াল করলেন অনিমেষবাবু। উনি নিজেও কম অবাক হননি মেহুলকে দেখার পর। তবুও ভেবেছেন মানুষে মানুষে মিল তো থাকে। তবুও মনের কোনে একটা প্রশ্ন বারবার উঁকি দিচ্ছে।মেহুল সব বুঝিয়ে দিয়ে আবার আসার কথা দিয়ে বেরিয়ে পড়ে সৌরীশবাবুর বাড়ি থেকে।ভদ্রলোকের জন্য খুবই মায়া হচ্ছে, অসুস্থ মানুষ, একা, দেখাশোনা করার এক ঐ কাজের লোক ছাড়া কেউ নেই। এইসব সাত পাঁচ ভাবছে আর মনের মধ্যে উঁকি দিচ্ছে ছবিটা।বারবার মনে হচ্ছে কোথায় পেলেন ঐ ছবি উনি!!এমন সময় ফোন বেজে উঠলোহ্যাঁ ডার্লিং আসছি একঘন্টার মধ্যে, বলে ফোনটা কেটে একটা ট্যাক্সি ধরলো।ক্রমশ....লেখিকাঃ রাখি রায়

জুলাই ২৫, ২০২১

ট্রেন্ডিং

দেশ

গুরুদ্বারের সামনেই সুখবীর বাদলকে কোপ! পেটে হামলার চেষ্টা, রক্তাক্ত প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী

মহারাষ্ট্রের নন্দেদে অকালি দল প্রধান তথা পঞ্জাবের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদলের উপর আচমকা হামলার অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার একটি গুরুদ্বারে যাওয়ার সময় তাঁর উপর ছুরি নিয়ে হামলা করা হয় বলে জানা গিয়েছে। হামলায় হাতে চোট পেয়েছেন সুখবীর বাদল। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন।জানা গিয়েছে, নন্দেদের একটি গুরুদ্বারে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। গুরুদ্বারের সামনেই আচমকা এক ব্যক্তি সুখবীর বাদলের দিকে এগিয়ে এসে হামলা করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, হামলাকারী তাঁর পেটে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নিরাপত্তারক্ষী এবং পুলিশকর্মীদের তৎপরতায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। হামলার সময় সুখবীর বাদলের হাতে চোট লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন।ঘটনার পর দ্রুত তাঁকে নন্দেদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে। হামলার সময় তাঁর স্ত্রী তথা অকালি দলের সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর সুখবীর বাদলকে ধরে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিয়োও প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে তাঁর ডান হাতে কাপড় বাঁধা দেখা যায়।হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁর নাম যশপাল সিং বলে জানা গিয়েছে। তিনি নিহাঙ্গ শিখ বলে সূত্রের দাবি। হামলায় কৃপাণ ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। যশপাল সিং গত দুই বছর ধরে তখত শ্রী হাজুর সাহিব গুরুদ্বারে কাজ করছিলেন বলে সূত্রের খবর। তবে হামলার প্রকৃত কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।সুখবীর বাদলের উপর এই প্রথম হামলার চেষ্টা নয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরের বাইরে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা হয়েছিল। সেই ঘটনায়ও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।ফলে নন্দেদের এই হামলার পর নতুন করে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঠিক কী কারণে সুখবীর বাদলকে লক্ষ্য করে হামলা করা হল এবং এর পিছনে অন্য কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে আগুন! ছ’শো বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা, আরও পাঁচশো আটক

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনের আঁচ আরও বাড়ল। গত সোমবার বিধানসভা অভিযানের পর বৃহস্পতিবার ৬০০ বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ১০০ জনের নাম এফআইআরে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আরও প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলেও খবর।গত প্রায় ২০ দিন ধরে নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলন করছেন ঝাড়খণ্ডের তরুণ প্রজন্ম। রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জেপিএসসি-জেএসএসসি সংস্কার মঞ্চ-এর ব্যানারে চলছে লাগাতার বিক্ষোভ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারি চাকরির একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের দাবি, অভিযোগ ওঠা পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে হবে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে।আন্দোলনকারীরা নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রস্তাব, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অথবা ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি বিশেষ প্যানেল তৈরি করে অভিযোগের তদন্ত করা হোক। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তাঁরা।সোমবার বিধানসভা অভিযানের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের মিছিল আটকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। এর পরেই রাজ্য রাজনীতিতে বিষয়টি নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়। পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে বিজেপি রাজ্যজুড়ে বন্ধের ডাক দেয়।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসও আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে অনশনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ২০২৪ সালে আবগারি কনস্টেবল পদের শারীরিক পরীক্ষায় মৃত্যু হওয়া ১৯ জন চাকরিপ্রার্থীর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার দাবিও তুলেছেন।এই ইস্যুতে বিজেপির ছাত্র সংগঠনও আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এখন শুধু ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, জাতীয় স্তরেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে।অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে জোট সরকারের শরিক কংগ্রেসের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিজেপির ছাত্র সংগঠন আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।সব মিলিয়ে সরকারি চাকরির নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলন ক্রমেই বড় আকার নিচ্ছে। এক দিকে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন, অন্য দিকে পুলিশের মামলা এবং বিরোধীদের চাপসব মিলিয়ে হেমন্ত সোরেন সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

‘আপনারা না পারলে আমরা করে দেখাব’, প্যাকেটজাত খাবার নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

প্যাকেটজাত খাবারে চিনি, নুন এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি হলে তার গায়ে স্পষ্ট স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা থাকা উচিতএই বিষয়টি ফের মনে করিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের গড়িমসি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। এমনকি কর্পোরেট সংস্থাগুলির চাপের কারণে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র বা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা নরম মনোভাব দেখাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে কড়া মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে পি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য, বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য জড়িত। তাই কোনও শিল্পগোষ্ঠীর চাপের কারণে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়।মামলাকারীর পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়, প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের গায়ে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পমহলের আপত্তি রয়েছে। সেই কারণেই খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে না বলে অভিযোগ করা হয়। মামলাকারীর আইনজীবী আরও জানান, গত ৭ মার্চ খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে অবশ্য শিল্পমহলের আপত্তির কথা আদালতে জানানো হয়। তাদের প্রস্তাব ছিল, প্যাকেটের গায়ে সরাসরি সতর্কবার্তা না দিয়ে প্রতিদিন কতটা অতিরিক্ত চিনি, নুন বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট খাওয়া উচিত, সেই পরিমাণ উল্লেখ করা যেতে পারে।কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ব্রিজেন্দর চাহার বিষয়টি আদালতে ব্যাখ্যা করেন। কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। কারণ, দেশের বহু প্রচলিত খাবারেই ঐতিহ্যগত ভাবে চিনি ও নুনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে।কেন্দ্রের এই যুক্তি শুনে আরও কড়া প্রশ্ন করেন বিচারপতিরা। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষকে সুস্থ রাখার বিষয়টি কি সরকারের অগ্রাধিকার নয়? বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে যখন বিষয়টি জড়িত, তখন আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলেই মত শীর্ষ আদালতের।আদালত স্পষ্ট করে জানায়, প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, নুন এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। ফলে প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দেওয়ার বিষয়ে আগামী দিনে বড় সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

পাইলটের শরীরে নিষিদ্ধ মাদক? ৩০০ ফুট নীচে নেমে যাওয়া বিমানের ঘটনায় তদন্তে বড় তথ্য

ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা কমে যাওয়ার ঘটনায় তদন্তে নয়া মোড়। বিমানের পাইলটদের পরীক্ষার ফল নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সরকারি সূত্র এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানের প্রধান পাইলটের নিশ্চিতকরণমূলক পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। তবে ওই পরীক্ষার ফল এবং বিমানের উচ্চতা কমে যাওয়ার ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগ এখনও তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেননি।৪ অগস্ট ফুকেত থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল বিমানটি। মাঝ আকাশে আচমকাই বিমানের উচ্চতা প্রায় ৩০০ ফুট কমে যায়। ঘটনায় যাত্রী ও কেবিনকর্মীদের কয়েক জন আহত হন। বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।ঘটনার পর দুই পাইলটেরই বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা করা হয়। প্রধান পাইলটের প্রথম পরীক্ষার ফল নেতিবাচক ছিল না। সেই কারণে নমুনা নিশ্চিতকরণমূলক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরের পরীক্ষাতেও গাঁজার উপস্থিতি পাওয়ার দাবি সামনে এসেছে। দুই পাইলটকেই তদন্ত চলাকালীন উড়ান থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এর পাশাপাশি বিমানের যান্ত্রিক অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উড়ানের সময় একাধিক সতর্কবার্তা দেখা গিয়েছিল বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। হাইড্রলিক ব্যবস্থা, উড়ান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় উড়ান ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যার কথাও তদন্তে উঠে এসেছে। ফলে শুধু পাইলটের ভূমিকা নয়, বিমানের প্রযুক্তিগত বিষয়ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।প্রধান পাইলট তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তাঁকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই ওষুধের কারণেই পরীক্ষায় এমন ফল আসতে পারে। এই দাবি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বিমানে তাঁর আচরণ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবিনকর্মীরা তাঁর আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বিমান সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। বিমান সংস্থাকে পরিচালনাগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তে যে বা যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।তবে বিমানের আচমকা উচ্চতা কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এখনও চূড়ান্তভাবে জানা যায়নি। পাইলটের পরীক্ষার ফল, বিমানের প্রযুক্তিগত সমস্যা, উড়ানের তথ্য এবং ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিলসব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও একটি কারণকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা ঠিক হবে না।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
কলকাতা

এনআরএসে নয়, অন্য হাসপাতালে ময়নাতদন্ত! নার্সের মৃত্যু ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত, কী জানাল স্বাস্থ্যদপ্তর?

এনআরএস হাসপাতালের শৌচালয় থেকে নার্সের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়। মৃত নার্সের স্বামী ও পরিবারের দাবি মেনে এনআরএস হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হবে না। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানান, মৃতার স্বামী রাহুল দাস এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য হাসপাতালে ময়নাতদন্তের আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদন মেনে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত হবে।নার্সের কীভাবে মৃত্যু হল, তা নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না স্বাস্থ্যদপ্তর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও অনুমান করা ঠিক হবে না। তাঁর কথায়, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অনুমানের জায়গা নেই। রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।ঘটনার তদন্তে আলাদা অভ্যন্তরীণ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এনআরএস হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যদপ্তরের উদ্যোগে তৈরি এই কমিটিতে হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান, এমএসভিপি, নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট, পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রতিনিধি-সহ একাধিক বিভাগের প্রধানদের রাখা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে ওই কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।বুধবার রাতে এনআরএস হাসপাতালের স্ত্রী রোগ বিভাগের এইচডিইউতে কর্মরত ওই নার্সের দেহ বিভাগেরই শৌচালয় থেকে উদ্ধার হয়। জানা গিয়েছে, রাত আটটা নাগাদ তিনি কাজে যোগ দিয়েছিলেন। রাত নটা নাগাদ এক রোগীকে পরিষেবা দেওয়ার পর শৌচালয়ে যান। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়।এক জন জুনিয়র চিকিৎসক তাঁর খোঁজ শুরু করেন। শৌচালয়ের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে গ্রুপ ডি কর্মীদের ডেকে দরজা ভাঙা হয়। ভিতর থেকে নার্সকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।এরপর থেকেই নার্সের মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, শৌচালয়ের ভিতরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং মৃত্যুর আগে তাঁর শারীরিক বা মানসিক অবস্থার কী পরিস্থিতি ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শৌচালয় থেকে কিছু জিনিস উদ্ধার হয়েছে। সেগুলিও তদন্তের আওতায় থাকবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও অভ্যন্তরীণ কমিটির রিপোর্ট সামনে এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
দেশ

স্বাধীনতা দিবসের আগে রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য! লালকেল্লা ঘিরে কেন বাড়ল নিরাপত্তা?

স্বাধীনতা দিবসের আগে রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি বিশেষ রিপোর্ট ঘিরে নতুন করে সতর্ক হয়েছে দিল্লি। ১৫ অগস্ট লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে ওই রিপোর্টে আল কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশে নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা নিয়ে একাধিক তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্ট সামনে আসার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তৎপরতাও বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে।রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে গোপন ঘাঁটি তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে আল কায়দার একটি শাখা। ভারতীয় উপমহাদেশে এই সংগঠনের কার্যকলাপ নিয়ে রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে। সংগঠনটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে আল কায়দা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট হিসেবে।রিপোর্ট অনুযায়ী, বড় কোনও সংগঠিত ইউনিট হিসেবে কাজ না করে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন দলের মাধ্যমে নিজেদের কার্যকলাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে এই গোষ্ঠী। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ তৈরি, অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।বাংলাদেশে সংগঠনটির সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হতে পারে কি না, তা নিয়েও নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রিপোর্টে সংগঠনটির সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।গত বছর নভেম্বর মাসে লালকেল্লার বাইরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলার সঙ্গে আল কায়দার যোগ থাকার তথ্যও রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।স্বাধীনতা দিবসের আগে লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে কেন্দ্র করে এমনিতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তার উপর রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে আল কায়দার নতুন করে সক্রিয় হওয়ার তথ্য সামনে আসায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরদারি আরও বাড়তে পারে।রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ছোট ছোট গোষ্ঠীর মাধ্যমে কাজ করায় সংগঠনটির প্রকৃত পরিধি চিহ্নিত করা কঠিন। অর্থ সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ধরনের পরিকাঠামোগত সহযোগিতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।স্বাধীনতা দিবসের আগে এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে সম্ভাব্য জঙ্গি তৎপরতার বিষয়ে এখন নিরাপত্তা সংস্থাগুলি কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
কলকাতা

আর জি করের ফাইল খুলতেই প্রথম গ্রেপ্তার! ওড়িশা থেকে পুলিশের জালে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ

আর জি কর মামলার ফাইল নতুন করে খোলার পরই বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। এই মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার হলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। অভয়ার দেহ দ্রুত সৎকার এবং পরিবারের সদস্যদের সই ছাড়াই দেহ সৎকারের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা থেকে নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর জি কর কাণ্ডের পর নিহত তরুণী চিকিৎসকের দেহ তড়িঘড়ি সৎকার করে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। পরিবারের সদস্যদের সই ছাড়াই দেহ সৎকার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।এই ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরব হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, অভয়ার দেহ দ্রুত সৎকার করে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি দেহ সৎকারের খরচও পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।এই ঘটনায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের পাশাপাশি ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোমনাথ দে এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নামও সামনে এসেছিল। গত সোমবার খড়দা থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন অভয়ার বাবা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।তদন্তের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা থেকে নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত অথবা শুক্রবার সকালে তাঁকে রাজ্যে নিয়ে আসা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।এর আগে ৯ অগস্ট আর জি কর কাণ্ডে নিহত তরুণী চিকিৎসকের দেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়। পরিবারের সই ছাড়া কীভাবে দেহ সৎকার করা হয়েছিল এবং ওই প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত ছিলেন, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।নির্মল ঘোষের পরিবারের বিরুদ্ধেও এর আগে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। গত ১৩ জুলাই তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নির্মল ঘোষের নাম লটারিকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।নির্মল ঘোষের গ্রেপ্তারির পর আর জি কর মামলার তদন্তে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভয়ার দেহ সৎকারের ঘটনায় আর কারা জড়িত ছিলেন এবং পুলিশের তদন্তে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ১৩, ২০২৬
রাজ্য

স্বপ্ন ছিল পাক আর্মিতে যোগ দেওয়ার! আইএসআইএয়ের এজেন্ট হয়ে কত বার ভারতে এসেছিল পাক জঙ্গি

বেঙ্গল এসটিএফের হাতে গ্রেফতার রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে জেরা করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তদন্তকারীদের দাবি, রানা মোট পাঁচ বার ভারতে এসেছিল। প্রতিবারই কলকাতায় এসে তিলজলায় ইজাজের বাড়িতে থাকত বলে জানা গিয়েছে। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তার কলকাতায় আসার তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতে আসার পর ভুয়ো পরিচয়ে একাধিক সরকারি নথি তৈরি করেছিল রানা। ইজাজের বাবা যুবের আলমকে নিজের বাবা বলে পরিচয় দিয়ে ভোটার কার্ড তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ। পরে সেই পরিচয়ের ভিত্তিতেই প্যান কার্ড এবং আধার কার্ডও তৈরি করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।জেরায় রানা জানিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই পাকিস্তান সেনায় চাকরি করার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু শারীরিক সমস্যার কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এরপর পাকিস্তান সেনা এবং আইএসআইয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই যোগাযোগের সূত্রেই সে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে যুক্ত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে ক্যারাটের প্রশিক্ষণ নিয়েছিল রানা। পাশাপাশি কাঠমান্ডুতেও তার ব্যবসা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানেই একটি মসজিদে ইজাজের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় বন্ধুত্বে গড়ায়। অভিযোগ, ইজাজের সাহায্যেই কাঠমান্ডু থেকে ভারতে ঢুকত রানা।প্রথম বার কলকাতায় আসার সময় রানার কাছে কোনও ভারতীয় পরিচয়পত্র ছিল না বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, বিহারের রক্সৌল সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে ভারতে প্রবেশ করত সে। পাঁচ বার ভারতে আসার সময়ই একই পথ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রতিবার কাঠমান্ডু থেকে ইজাজই তাকে ভারতে নিয়ে আসত বলে জানা গিয়েছে।সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় রানাকে ডেকেছিলেন বুথ স্তরের আধিকারিক। কিন্তু সে হাজির না হওয়ায় ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ যায় বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। ইজাজ রানার পাকিস্তানি পরিচয় সম্পর্কে জানত কি না, তা-ও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ, পরিচয় জানার পরেও ইজাজ তাকে নিজের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল।রানার গতিবিধি নিয়েও তদন্তকারীদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। ফোর্ট উইলিয়াম ছাড়াও ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সে ঘোরাফেরা করেছিল বলে জানা গিয়েছে। ওই সব জায়গার ছবি ও ভিডিয়ো তুলে সেগুলি বিদেশে থাকা সন্দেহভাজন যোগাযোগের কাছে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।ভুয়ো পরিচয়ে ভোটার কার্ড তৈরি করার পর একাধিক সিম কার্ড সংগ্রহ করেছিল রানা বলেও অভিযোগ। ওই সিম ব্যবহার করেই সে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখত বলে তদন্তকারীদের দাবি। তার যোগাযোগের জাল কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়েছিল, তা জানতে ফোন ও অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেফতারের আগে বাংলাদেশের পথে পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল রানার। বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে সেখান থেকে পাকিস্তানে যাওয়ার ছক ছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু সীমান্ত পেরোনোর আগেই এসটিএফের হাতে গ্রেফতার হয় সে। এখন রানা ও তার সহযোগীদের মাধ্যমে আর কারা এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল, সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আগস্ট ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal